সময় এক অদ্ভুত জাদুকর। তার আঙুলের ইশারায় ঋতুরা নিঃশব্দে পোশাক বদলায়। মেঘের দীর্ঘশ্বাস যখন শ্রাবণের আকাশ থেকে বিদায় নেয়, তখন বাতাসের শরীরে একটা হিমেল শূন্যতা নেমে আসে। বর্ষার বৃষ্টির পানি ধুয়ে দিয়ে যায় পৃথিবীর সমস্ত ক্লান্তি। রোদের কান্না যেন শিশির হয়ে ঝরতে শুরু করে পৃথিবীর ঘাসে ঘাসে। শীত আসে। মানুষ শীতের জন্য কত রকম প্রস্তুতিই না নেয়। কেউ বোনে উল, কেউ খোঁজে পুরোনো চাদর, কেউবা জমিয়ে রাখে শুকনো কাঠ। কিন্তু আমার বাবার শীত প্রস্তুতি ছিল এক অন্যরকম ইবাদত। যেন এক সুফি দরবেশ তার রূহের খোরাক জোগাড় করতে নেমেছেন এক অলৌকিক যাত্রায়। এই প্রস্তুতি শুরু হতো ঠিক বর্ষা মৌসুমের পরপরই, যখন আকাশ তার সবটুকু কান্না ঢেলে দিয়ে পবিত্র আর পরিচ্ছন্ন হয়ে উঠতো।
আমাদের একটি বাঁশবাগান আছে। তেইশ শতকের এক বিস্তীর্ণ ছায়াঘেরা ভূমি।
সেখানে গেলে মনে হয়, প্রকৃতি যেন এক নীরব জিকিরের মজলিস বসিয়েছে। বাতাসের ঝাপটায়
বাঁশপাতাগুলো যখন একে অপরের গায়ে আছড়ে পড়ে,
তখন সৃষ্টি হয় এক অপার্থিব নীরবতার
শব্দ। সেই বাগানের একপাশে, প্রায় পাঁচ শতাংশ জুড়ে রয়েছে জাওয়া বাঁশের আভিজাত্য। আর
বাকি আঠারো শতাংশে ছড়ানোে আছে ভালকো বাঁশের বিনম্র উপস্থিতি। জিকিররত এই
বাঁশবাগানটি শুধু আমাদের জমির অংশ ছিল না,
এটি ছিল আমার বাবার এক আধ্যাত্মিক আশ্রয়।
আব্বা বাগানে ঢুকতেন এক তীক্ষ্ণ, মারেফাতের দৃষ্টি নিয়ে। ঠিক যেন এক আধ্যাত্মিক মুর্শিদ তার মুরিদদের পরখ করছেন। জাওয়া ঝাড়ের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি সবচেয়ে পাকা, সবচেয়ে পরিপক্ব বাঁশটি বেছে নিতেন। তার হাতের স্পর্শে বাঁশগুলো যেন কথা বলে উঠতো। মাওলানা রুমির সেই বাঁশরীর কথা মনে পড়ে? যে বাঁশ তার উৎস থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কেঁদে ওঠে, আর সেই কান্নাই হয়ে যায় ইশকের সুর। আব্বার হাতের ছোঁয়ায় কাটা পড়া জাওয়া বাঁশগুলো যেন সেই সুরেই কেঁদে উঠতো।
আর কে জানতো! কে জানতো যে,
এই জিকিররত বাঁশবাগানের স্নিগ্ধ ছায়াতেই
একদিন তাঁর চিরস্থায়ী ঠিকানা হবে! হ্যাঁ,
আজ এই বাগানের বুকেই পরম শান্তিতে
চিরনিদ্রায় ঘুমিয়ে আছেন আমার বাবা। যে গাছগুলোকে তিনি নিজের সন্তানের মতো চিনতেন, যাদের গায়ে
তিনি হাত বুলিয়ে দিতেন, আজ তারাই যেন তাঁর কবরের চারপাশে দাঁড়িয়ে রূহের মাগফিরাত
কামনা করে। শীতের সকালে যখন শিশির ঝরে বাঁশপাতা থেকে, আমার মনে হয়
প্রকৃতি যেন নীরবে আমার বাবার জন্য চোখের জল ফেলছে।
বাঁশ কাটলেই তো আর সব শেষ হয়ে যায় না। তাকে প্রস্তুত করতে হয়। নফসকে
যেমন রিয়াজতের পানিতে ভিজিয়ে নরম করতে হয়,
কলুষতা দূর করতে হয়, ঠিক তেমনি
বাঁশের ভেতরের কাঠিন্য আর অহংকারকে পানির শীতলতায় গলিয়ে দিতে হতো। আব্বা
বাঁশগুলোকে নির্দিষ্ট মাপে কেটে পানিতে ভিজিয়ে রাখতেন কিছুদিনের জন্য। নির্দিষ্ট
কয়েক দিন পর, আব্বা যখন তার অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে বুঝতেন বাঁশগুলো কাজের উপযোগী হয়েছে, তখন তিনি
সেগুলো পানি থেকে তুলতেন।
এরপর শুরু হতো তার শিল্পের সাধনা। বাঁশ চিরে চিরে তিনি বিশেষ এক ধরণের
ঝুড়ি বা ঠোঙা বানাতেন। একে বলা হতো 'গাছ কাটা দাও-এর ঠোঙা'। এই ঠোঙাটি যেন ছিল এক মোমিনের সিনা বা বক্ষ, যার ভেতরে
লুকানো থাকবে ধারালো এক দাও। যে দাও দিয়ে খেজুর গাছের বুক চিরে বের করে আনা হবে
মিষ্টি রসের তাজাল্লি। অহংকারের বাকল না কাটলে কি আর ভেতরের নূরানী মিষ্টতার দেখা
মেলে? এই দাওটি ছিল যেন জিকিরের সেই তরবারি, যা নফসের পর্দাকে ছিন্ন করে দেয়।
আর সেই ঠোঙাটি ছিল পরম যত্নে গড়া এক হৃদয়,
যা সেই ধারালো সত্যকে বুকে আগলে রাখে।
আব্বার প্রস্তুতির প্রতিটি ধাপে ছিল রূহানিয়াতের ছোঁয়া। এরপর আসতো
পাটের রশি বানানোর পালা। সোনালী পাট। আব্বা নিজের হাতে পাট পাকিয়ে চিকন রশি
বানাতেন। তার আঙুলের প্রতিটি মোচড়ে যেন মিশে থাকতো এক নীরব জিকির। তারপর সেই চিকন
রশিগুলোকে একত্রে পাকিয়ে পাকিয়ে তৈরি করতেন মোটা গাছি রশি। এই রশি পাকানোর দৃশ্যটি
আমাকে মনে করিয়ে দিতো আল্লাহর রজ্জুকে (হাবলুল্লাহ) শক্ত করে আঁকড়ে ধরার কথা। সেই
গাছি রশি আব্বা তার মাজায় বা কোমরে জড়িয়ে নিতেন। যেন এক আধ্যাত্মিক বর্ম। এই রশি
তাকে গাছের উঁচুতে শূন্যের মাঝে ধরে রাখবে। তাওয়াক্কুল বা আল্লাহর ওপর ভরসার কী
অপূর্ব দৃশ্যমান রূপ!
শীতের হিমেল হাওয়া যখন তীব্র হতে শুরু করতো, তখন আব্বার
ভেতরে এক অদ্ভুত মমতার জন্ম হতো। এই মমতা কেবল মানুষের জন্য নয়, সৃষ্টির
প্রতিটি কণার জন্য। আমাদের বাড়ির কাঁঠাল গাছগুলোর দিকে তাকিয়ে আব্বার মনে হতো, ওদের বুঝি শীত
লাগছে! তিনি বিচালি বা খড় দিয়ে কাঁঠাল গাছের গা পরম যত্নে জড়িয়ে দিতেন। তার এক সরল
বিশ্বাস ছিল—কাঁঠাল গাছের শীত লাগলে তাতে আর ফল আসে না।
কী এক পরাবাস্তব বিশ্বাস! সাধারণ চোখে এটি হয়তো নিছকই এক গ্রামের
মানুষের কুসংস্কার মনে হতে পারে। কিন্তু মারেফাতের দৃষ্টিতে দেখলে এর ভেতরে লুকিয়ে
ছিল বিশ্বনবীর (সা.) সেই মহান শিক্ষা এবং আহলুল বাইতের অতুলনীয় মমত্ববোধ। যারা
নিজেদের ক্ষুধার অন্ন তুলে দিতেন বন্দি আর ইয়াতিমের মুখে, তাদেরই তো
অনুসারী আমার বাবা। একটি বোবা গাছের শীত নিবারণ করা—এ তো ইশকে ইলাহিরই এক অনন্য
প্রকাশ। গাছের গায়ে জড়ানো খড়গুলো যেন এক একটি দোয়ার চাদর হয়ে উঠতো। আমি যেন দেখতে
পেতাম, রাতের অন্ধকারে সেই কাঁঠাল গাছগুলো কৃতজ্ঞতায় দীর্ঘশ্বাস ফেলছে, আর সেই
দীর্ঘশ্বাসে শুকনো মরুভূমিতে বিশ্বাসের ফুল ফুটে উঠছে।
"প্রেমের আগুনে
যে নিজেকে পোড়াতে জানে না, সে তো কেবলই এক খণ্ড বরফ। আর যে অন্যের শীতে নিজে কাঁপে, তার ভেতরেই
লুকিয়ে থাকে সৃষ্টির সবচেয়ে বড় রহস্য।"
এরপর আসতো নাভারণের বাজার থেকে ভাঁড় কিনে আনার পালা। বেছে বেছে, প্রতিটি মাটির
পাত্র তিনি পরীক্ষা করে কিনতেন। মাটির ভাঁড়। মানুষও তো মাটির তৈরি। যে কলব বা
হৃদয়ে আল্লাহর নূর ধারণ করা হবে, তা তো নিখুঁত হতে হবে। সেখানে কোনো ছিদ্র থাকা চলবে না।
যেদিন খেজুর রস সংগ্রহ করা হবে, সেদিন সকাল থেকেই শুরু হতো ভাঁড়গুলোর পবিত্রতার কাজ। পানির
ভেতরে সেগুলো ডুবিয়ে রাখা হতো। দুপুরে জোহরের নামাজের আগে আগে, আব্বা সেগুলো
সুন্দর করে ঘষে মেজে পানি দিয়ে পরিষ্কার করতেন। যেন তওবার পানিতে ধুয়ে ফেলা হচ্ছে
নফসের সব গুনাহ।
এরপর আসতো আগুনের পরীক্ষা। পরিষ্কার করা ভাঁড়গুলোতে আগুনের তাপ দেওয়া
হতো। আগুনে পুড়ে যেমন সোনা খাঁটি হয়, তেমনি ইশকের আগুনে পুড়ে কলব হয় তাজাল্লি ধারণের উপযোগী। রস
সংগ্রহের জন্য ভাঁড়গুলো এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আব্বা বাঁশের বাঁকের দুই প্রান্তে
ভাঁড়গুলো ঝুলিয়ে রওনা হতেন বাগানের দিকে। কাঁধে তার বাঁক, যেন দুনিয়া ও
আখেরাতের ভারসাম্য। আমাদের প্রায় বেয়াল্লিশটি খেজুর গাছ ছিল। প্রতিটি গাছের সাথে
আব্বার ছিল এক আত্মিক সম্পর্ক। তিনি প্রতি সপ্তাহে এক দিন পরম মমতায় সেই গাছগুলো
থেকে রস সংগ্রহ করতেন।
যেদিন গাছ কাটা হতো, সেদিন এশার নামাজের পর এক অন্যরকম নীরবতা নামতো পৃথিবীতে।
তারারা যেন আকাশে তসবিহ পড়তো। আব্বা বাজার থেকে ফিরে আমাকে সাথে নিয়ে বের হতেন
খেজুর রস সংগ্রহ করতে। রাতের অন্ধকার। শীতের কুয়াশা। চারদিকে এক গা ছমছমে ভাব।
কিন্তু বাবার হাত ধরে হাঁটার সেই অনুভূতি ছিল এক নিরাপদ আশ্রয়ের মতো। যেন এক
মুর্শিদের হাত ধরে মুরিদ হাঁটছে সিরাতুল মুস্তাকিমের পথে।
গাছ থেকে যখন প্রথম রসের ফোঁটা মাটিতে পড়তো, তখন মনে হতো যেন মানুষের সেজদাহর চোখের জল নূরানী ঝরনা হয়ে বইছে। সেই তাজা রসের স্বাদ! সে তো কেবল রস ছিল না, ছিল আল্লাহর এক অসীম রহমতের আস্বাদন। অত্যন্ত মিষ্টি, যেন জান্নাতের কোনো এক নদীর সুধা দুনিয়াতে নেমে এসেছে। সেই রাতের রস নিয়ে বাড়ি ফিরলে মা চুলোয় আগুন দিতেন। মা রান্না করতেন 'জাঁও' বা এক ধরণের পায়েস। মায়ের হাতের ছোঁয়ায় সেই পায়েস হয়ে উঠতো এক ঐশ্বরিক খাবার। সুঘ্রাণে ভরে উঠতো চারপাশ। রাতের আঁধারে সেই উষ্ণ খাবার আমাদের আত্মাকে তৃপ্ত করতো।
পরের দিন ভোর। কুয়াশা ভেদ করে যখন সকালের রোদ উঁকি দিতো, তখন আব্বা
আবার যেতেন সকালের রস সংগ্রহ করতে। সেই রস দিয়ে শুরু হতো আরেক বিশাল কর্মযজ্ঞ, যা আমাকে মনে
করিয়ে দিত সুফিবাদের 'ফানা' বা অস্তিত্ব বিলীনের কথা।
রসের কড়াই থেকে ধোঁয়া উঠতো আকাশে। তরল রস আগুনের উত্তাপে নিজের
অস্তিত্ব হারিয়ে পরিণত হতো ঘন গুড়ে। নফস যেমন গলে গিয়ে আল্লাহর ইচ্ছায় বিলীন হয়, রসও তেমনি
পুড়ে গিয়ে চিরস্থায়ী মিষ্টতায় রূপ নিতো। সকালের রস জ্বালানোর আবেশে সারা বাড়ি মৌ
মৌ করতো, যেন জান্নাতের হাওয়া বইছে আমাদের ছোট্ট উঠোনে। এই গুড় আর পাটালী আমরা
সারা বছর ধরে খেতাম, যেন সারা বছর ধরে আমরা সেই বরকতের ছায়ায় বেঁচে থাকতাম।
দুপুরের দিকে যখন গুড় জ্বালানো শেষের পথে, তখন আমাদের
বাড়ির উঠোন ভরে যেতো পাড়ার সমবয়সী ছেলে-মেয়ের ভিড়ে। তাদের হাতে থাকতো ধুয়ে আনা
কাঁঠাল পাতা। জোসনার হাসি যেমন রাতের উঠোনে লুটোপুটি খায়, তেমনি শিশুদের
নিষ্পাপ কোলাহলে মুখরিত হতো চারপাশ। মা হাসিমুখে চুলার পাড় থেকে সেই কাঁঠাল পাতার
ওপর গরম, তরল গুড় ঢেলে দিতেন। বাচ্চারা সেই গুড় খেতে খেতে, শীতের মিষ্টি
রোদ গায়ে মেখে বাড়ির দিকে রওনা হতো।
এখানে কোনো কৃপণতা ছিল না। কোনো হিসাব-নিকাশ ছিল না। ছিল কেবল বিলিয়ে
দেওয়ার আনন্দ। আহলুল বাইতের দস্তরখানে যেমন কেউ কখনো খালি হাতে ফিরতো না, আমাদের বাড়ির
উঠোনটাও যেন সেই মহৎ আদর্শের এক ক্ষুদ্র প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠতো। অন্যের তৃপ্তিতেই
নিজের আত্মার প্রশান্তি। আমার বাবা-মা বিশ্বাস করতেন, এই শিশুদের
হাসিতেই লুকিয়ে আছে আল্লাহর সন্তুষ্টি।
আজ সময় অনেক দূরে চলে গেছে। জোসনার হাসি আর উঠোনে লুটোপুটি খায় না। মেঘের দীর্ঘশ্বাসগুলো এখন আমার বুকের ভেতর গুমরে মরে। সেসব দিনের কথা মনে হলে বুকের ভেতরটা হু হু করে ওঠে। শূন্যতার এক বিশাল পাহাড় যেন চেপে বসে কলবের ওপর।
আজ ২২ আগস্ট। ক্যালেন্ডারের পাতায় হয়তো এটি একটি সাধারণ দিন, পৃথিবীর কাছে
হয়তো কেবলই একটি তারিখ। কিন্তু আমার কাছে এটি এক অনন্ত শূন্যতার দিন। আমার বাবার
মৃত্যুবার্ষিকী।
সেই বেয়াল্লিশটি খেজুর গাছ আজ আর নেই। আমাদের উঠোনে এখন আর গুড়
জ্বালানো হয় না। শীতের দুপুরে পাড়ার ছেলে-মেয়েরাও কাঁঠাল পাতা হাতে এসে ভিড় করে
না। সব যেন এক জাদুকরী গল্পের মতো শেষ হয়ে গেছে। পড়ে আছে কেবল এক দীর্ঘস্থায়ী
বিষণ্ণতা।
কিন্তু সেই বাঁশবাগানটি আজও আছে। সেখানে গেলে আজও বাতাসের ফিসফিসানিতে
আমি শুনতে পাই নীরবতার শব্দ। আমার বাবা সেখানে শুয়ে আছেন পরম শান্তিতে। আমি চোখ
বন্ধ করলেই দেখতে পাই, জান্নাতের কোনো এক নূরানী ঝরনার পাশে বসে আছেন তিনি, আর তার চারপাশ
ঘিরে আছে অপার্থিব এক প্রশান্তি। বাবার রেখে যাওয়া সেই স্মৃতিগুলো, সেই
তাওয়াক্কুল, সেই সৃষ্টির প্রতি মমতা—এগুলোই এখন আমার আত্মার আলো, আমার
মারেফাতের পথ।
আপনাদের সবার কাছে আজ আমার এক বিনীত আকুতি। আজ ২২ আগস্ট, এই বিশেষ দিনে, অন্তত একবার
আমার বাবার জন্য রবের দরবারে হাত তুলবেন। আপনাদের সেজদাহর চোখের জল যদি আজ আমার
বাবার জন্য ঝরে, তবে হয়তো তাঁর কবরে নূরের তাজাল্লি আরও বহুগুণ বেড়ে যাবে।
আল্লাহ যেন তাঁকে তাঁর রহমতের চাদরে আবৃত করে নেন। তাঁকে যেন জান্নাতুল ফেরদাউসের
মেহমান হিসেবে কবুল করে নেন। আমিন।
নীরবতার শব্দগুলো আজও আমাকে ফিসফিস করে বলে—যা কিছু সুন্দর, তা চিরকাল
বাঁচে কলবের গহীনে, রূহের গভীরে। মানুষের সেজদাহর চোখের জল যখন নূরানী ঝরনা
হয়ে বয়ে যায়, তখন অতীত আর বর্তমান মিলেমিশে একাকার হয়ে যায় অনন্তের ঠিকানায়।
যে বাবা একদিন কাঁঠাল গাছের শীত নিবারণের জন্য খড় জড়িয়ে দিতেন, আজ আমরা সবাই মিলে দোয়ার চাদর দিয়ে তাঁর রূহকে উষ্ণ করে রাখি।


আপনার মূল্যবান মতামত দিন। আমরা আপনার কমেন্টের অপেক্ষায় আছি! দয়া করে গঠনমূলক মন্তব্য করুন এবং কোনো স্প্যাম বা বিজ্ঞাপন লিংক শেয়ার করবেন না।